ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা — বিস্তৃত বিশ্লেষণ

 ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা বিস্তৃত বিশ্লেষণ





আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুপুর দেড়টার কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের কম্পন অনুভূত হওয়া শুরু হয়, বিশেষ করে ঢাকা, বরিশাল বিভাগ, খুলনা ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জেলায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে যে এই ভূকম্পনটি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা থেকে উৎপন্ন হয়েছিল এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৫.৪ মাত্রা ছিল, যা মাঝারি তীব্রতার হিসাবে ধরা হয়।

ভূমিকম্পটি বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে অনুভূত হয়। কম্পনের স্থায়ীত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড, কিন্তু পর্যাপ্ত মানুষের মধ্যে এটি অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ঢাকার আগারগাঁও থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৮৮ কিলোমিটার বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।

উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি উত্তরগামী স্থানগুলোতে কম্পনের মাত্রা কিছুটা ভিন্ন হলেও আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (United States Geological Survey) উল্লেখ করেছে যে উৎপত্তিস্থলের কম্পনের শক্তি প্রায় ৫.৩ রিখটার স্কেল ছিল, যা স্থানীয় মাপের সাথে তুলনামূলকভাবে সামান্য কম হলেও প্রভাব দর্শানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।

ভূমিকম্প বর্ণনা করতে গিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়ৎ কবীর বলেন, এটি ছিল একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। তিনি আরো বলেন, “এ ধরনের ভূমিকম্প সাধারণত গভীর ভূত্বকের গতিবিদ্যার কারণে ঘটে থাকে এবং এর সঙ্গে প্রাকৃতিক ভূতত্ত্বীয় পরিবর্তনগুলো জড়িত থাকে। এই মাত্রার কম্পন সাধারণত কোনো বড় ধ্বংসাত্মক ঘটনা সৃষ্টি করে না, তবে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।”

ঢাকার মতো বৃহত্তর শহরে কম্পন অনুভূত হলে সাধারণ মানুষের মনেই প্রথম মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এরপর নিজেদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ব্যস্ত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে এমন কম্পন মাঝারি হলেও এর অনুভূত অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষের মানসিক স্থিতি প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্বস্ত ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবাংলা, ভারতে বসিরহাট-কলকাতা অঞ্চলসহ ভারতের দুই বাংলার অংশে এই সময়ে একই কম্পনের প্রভাবও অনুভূত হয়েছে এবং সেখানে রিখটার স্কেলে প্রভাব প্রায় ৫ মাত্রার সমান ছিল, যা এই ভূমিকম্পের প্রাকৃতিক বিস্তার নির্দেশ করে।

এমন ভূমিকম্প শুধুমাত্র বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ও টেকটনিক প্লেটের forcers-এর দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, ভবন নির্মাণের মান ও জরুরি সেবা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে। বাংলাদেশ যেমন একটি ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, তেমনি প্রায়শই মাঝারি ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়া স্থানীয়দের সচেতন করে তোলে যে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কম্পনও হতে পারে।

গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে আরও ভূকম্পনের ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে মাসের শুরুর দিকে কলারোয়া উপজেলায়ও কম্পন অনুভূত হয়েছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছিল, যদিও কলারোয়া -এ অনুভূত কম্পন তখনও মাঝারি মাত্রার ছিল, তবে সেখানে পূর্বেও ভূমিকম্প ছোট-মাঝারি আকারে সংঘটিত হয়েছে বলে বলা হয়েছিল।

এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে গত বুধবার রাতে ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল, যার মাত্রা ছিল প্রায় ৫.১ রিখটার, তবে তখন উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার অঞ্চলে। তার ফলে কম্পনের রেশ ঢাকাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও অনুভূত হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির সঙ্গে এ ধরনের কম্পন থাকার কারণ হলো টেকটনিক পাথরের অমীমাংসিত গতিবিদ্যা। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-তরঙ্গ ও প্লেট মুভমেন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংস্পর্শ এলাকায় এদের টেকটনিক চাপ বেশি থাকে।

সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে এই কম্পনটি যদিও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধ্বংসাত্মক ঘটনা সৃষ্টি করেনি, তবুও এটি মানুষের মনোভাব, প্রস্তুতির স্তর আর ভবিষ্যৎ ভূমিকম্প-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দেয়। ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ এর কাছাকাছি হলেও এটি মানুষকে সতর্ক করে দেয় যে, এই অঞ্চলের ভূ-তরঙ্গ কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দরকার রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাব্যতা বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি ব্যবস্থা আরও উন্নত করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামীদিনগুলোর জন্য আবহাওয়া এবং ভূতাত্ত্বিক কেন্দ্রগুলোকে সতর্ক নজর রাখতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন কম্পন বা বড় ভূমিকম্পের প্রভাব সম্পর্কে জনগণ প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারে।

Tags

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !