প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আবার শুরুআদালতের নির্দেশে নতুন নিয়ম, অংশ নেবে বেসরকারি শিক্ষার্থীরাও
দীর্ঘ আইনি জটিলতার কারণে গত বছর স্থগিত হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে এই পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এই পরীক্ষা অবশেষে পুনরায় শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, এবার থেকে বেসরকারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরাও এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এতদিন শুধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যই এই পরীক্ষা সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে বেসরকারি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি না থাকায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশনা এবং সংবিধানের সমান অধিকারের নীতির আলোকে সরকার তার পূর্বের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছে।
রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা উপদেষ্টা/মন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখার স্বার্থেই এবার নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৮২,৫০০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে। এর মধ্যে ৩৩,০০০ জন পাবে “ট্যালেন্ট পুল” বৃত্তি এবং ৪৯,৫০০ জন পাবে সাধারণ বৃত্তি। ট্যালেন্ট পুল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসিক ৩০০ টাকা করে ভাতা পাবে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসিক ২২৫ টাকা করে ভাতা পাবে।
সরকার জানিয়েছে, সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে ৪১,২৫০ জন শিক্ষার্থী ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ভিত্তিতে সরকারি স্কুল থেকে নির্বাচিত হবে। বাকি ৮,২৫০ জন বেসরকারি স্কুল থেকে উপজেলা ভিত্তিতে নির্বাচিত হবে। এভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মোট পাঁচটি বৃত্তি বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে দুইটি ছেলেদের জন্য, তিনটি মেয়েদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। বাকি একটি বৃত্তি মেধার ভিত্তিতে প্রদান করা হবে। সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কাঠামো অনুসরণ করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমান সুযোগ তৈরির দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অভিভাবক মহলও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, আগে যেহেতু শুধুমাত্র সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পেত, তাই বেসরকারি শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের বঞ্চনার অনুভূতি ছিল। এখন সবার জন্য দরজা খুলে দেওয়ায় প্রতিযোগিতা আরও ন্যায্য ও স্বচ্ছ হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বৃত্তি প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত ও নিয়মতান্ত্রিক হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং সংবিধানের সমান অধিকার নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানে পৌঁছেছে।
আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পড়াশোনার খরচে সহায়তা পেতে চায়, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা।
শিক্ষা খাতে এই নতুন সিদ্ধান্ত দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৃত্তি কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাচ্ছে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পাবে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আবার চালু হওয়া এবং নতুন নিয়মে সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়া শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন শিক্ষার্থীদের চোখ আগামী এপ্রিলের পরীক্ষার দিকে, যেখানে তাদের মেধাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের পথ।


আদৌ হবে কি না সন্দেহ।
ReplyDelete